The New Dawn

Every sunrise offers a second chance.

post

Advertisements

আলোর ওপরে আলো আসে

আলোর ওপরেই আলো আসে। চুম্বক টানে চুম্বকের টান যে নিতে চায় তাকে। মাটির নিচ ভেদ করে নির্নিমেষ আকুতি নিয়ে অংকুরোদগম হয় বীজের, আলোর টানে। যে যাকে খুঁজে পেতে চায়, খুঁজে নেয় পরম আকুতিতে। কেউ যখন কিছু পেতে চায় ভীষণ আর্তিতে, তাকে সে খুঁজে নেয় কষ্ট যতই হোক। নরম বীজ যেমন মাটির শক্ত বাঁধাকে পেরিয়ে তবেই আলোর পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে, সৃষ্টির সর্বত্রই এই আকর্ষণ ছড়িয়ে।

একজন মানুষ হাজারো কথার এক সত্ত্বা, তার মাঝে আমরা খুঁজে নিই আপনায়। কারো কথায় যতটা না তার বলা অর্থ, নিজের মনমতন তাকে গড়ে নিই আমরা পুরোটায়। ধ্বনি তো প্রতিধ্বনিকে জন্ম দেয়। প্রতিবিম্ব তো বিম্বকেই ফিরিয়ে দেয়। আমাদের নিজেদেরকে আমরা খুঁজে পাই অন্যের মাঝে। আমাদের চিন্তাকে দেখতে পাই অপরের কাজে। যা বুঝিনা, তা দেখিনা। যা খুঁজে কেবল তাকেই দেখি।

আপনারে মোরা খুঁজিয়া বেড়াই সর্বত্রে…

বিবশ

রেমার্কের থ্রি কমরেডসের কথা মনে হচ্ছিলো। রবার্ট, গোটফ্রীড আর ওটোদের জীবন কেমন অদ্ভুত লেগেছিলো। প্রথমে ভালো লাগেনি প্যাট্রিসিয়া হফম্যানের অমন জীবনটার সাথে রবার্টের অমনভাবে জড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু বারবার মনে হচ্ছিলো, অমন বিধ্বস্ত পৃথিবীতে যে অর্থ খুঁজে পেয়েছিলো প্যাট কিংবা রবার্ট, তা হয়ত পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ পায় না, পায়নি। স্যানাটেরিয়ামে প্যাটের মূহুর্তগুলো অনেক অনেক বছর পর আমাকে বইপাঠপূর্বক অশ্রুসিক্ত করেছিলো। শুধুই কি কল্পনা? শুধুই কি মানুষের নিশ্চিত চলে যাওয়া, ভালোবাসার আর্তি আর শারীরিক ক্ষয়ের কাছে অসহায় নিশ্চুপ আত্মসমর্পণের ব্যাপারই ছিলো ওটা? মানুষের মাঝে হয়ত আরো বেশি কিছু থাকে, আরো অনেক গভীর কিছু বোধ থাকে। সম্ভবত সেগুলো এড়িয়েই বেঁচে থাকি আমরা।

বইটা পড়ার পর অমন অসাধারণ লাগেনি। আজ অনেকদিন পর, অনেক বছর পর মনে হলো রেমার্ক দারুণ লিখেছিলেন। আমাদের জীবনগুলোর অনুভূতিমালার প্রগাঢ় প্রবাহই ছুটে গিয়েছিলো তার লেখনীতে। আমার কেন যেন মনে হয়, প্যাটের স্যানাটেরিয়ামের সামনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে আমি বসে আছি। বিবশ হয়ে যাওয়া, নিথর হয়ে যাওয়া প্যাট্রিসিয়া হফম্যান আর রবার্টকে দেখতে পাচ্ছি, অনুভব করতে পারছি একেকটা গোটা জীবনের ওই মূহুর্তের অদ্ভুত জীবন। সম্ভবত এরিক মারিয়া রেমার্কের কষ্টগুলোও টের পাচ্ছি, টের পাচ্ছি সেই দৃশ্যপট, অনুসঙ্গ আর উপমার নান্দনিক উপস্থাপনের পেছনে কত ভীষণ জ্বালা মিশে ছিলো। প্রতিটা সৃষ্টিই বুঝি অমন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হয়?

২২/০৭/১৭

নুন না থাকলে

নুন না থাকলে তরকারী মুখ দিয়েই যেন ঢুকেনা। নুন বেশি হলেও তাই। মিষ্টি একদম না হলে চা খাওয়াও শক্ত, বেশি চিনিতে তৈরি হয় হাজারটা সমস্যা। ঘুম কম হলে, বিছানায় পিঠ না ঠেকালে ঠিক সুস্থ থাকা যায়না, কর্মক্ষমতা আসে না। বেশি শুয়ে থাকলে বেড সোর হয়।

মানুষের ভালোবাসা পেতে, দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যারা কাঙাল হয়ে থাকে; কেউ বেশি খোঁজ নিলে, সবসময় লেগে থাকলে নাভিশ্বাস ওঠে, পালিয়ে বাঁচতে চায় তখন।

অবিমিশ্র সুখে সুখের আনন্দ নেই। ঢেউয়ের মতন উথাল পাথাল হয়ে দুঃখ থাকে বলেই সুখের এত দাম। কাজের যন্ত্রণা আছে বলেই অবসরের আনন্দ। তিক্ততা আছে বলেই ভালোবাসাকে মনে হয় এত সুন্দর!

আঁকড়ে ধরা আর ছেড়ে দেবার ভারসাম্যই জীবন। উত্তর মেরু কিংবা দক্ষিন মেরুতে থেকে শান্তি নেই, সবাই পালিয়ে এসে তাই মাঝে বসবাস করে।

২২/০৭/১৭